বাংলাদেশের স্বাস্থ্যক্ষাত কে আরও শক্তিশালী ও বিশ্বমানের স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের লক্ষে ২০০৫ সালে গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের অভাবনীয় উদ্দ্যোগ হিসেবে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য প্রকৌশল জগতে এক মহা বিপ্লবের আবির্ভাব হয় ৪ বছর মেয়াদী ডিপ্লোমা ইন ইলেক্ট্রোমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্স চালু করার মাধ্যমে । সর্বপ্রথম পরীক্ষামূলকভাবে রাজশাহী মহিলা পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট এ ২০০৫ সালে একটি ব্যাচ চালু করা হয় । এরপর এই ডিপার্টমেন্টের গুরুত্ব, প্রয়োজনিয়তা ও কার্যপরিধি সমন্ধে সংশ্লিষ্ট সকলের ধারনা সুস্পষ্ট হয় । তারই ফলশ্রুতিতে ২০০৬ সাল থেকে ময়মনসিংহ পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট, ঢাকা মহিলা পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট, রাজশাহী পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট, ব্রাক্ষ্মনবাড়িয়া পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট, রংপুর পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট, সিলেট পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট, মুন্সিগঞ্জ পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট, বরিশাল পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট এ পর্যায়ক্রমে এই ডিপার্টমেন্ট চালু করা হয় । কিন্তু অতি কষ্টের সাথে প্রকাশ করছি যে, এতগুলো সরকারি প্রতিষ্ঠানে উক্ত ডিপার্টমেন্ট টি চালু হওয়া সত্বেও সরকারি ভাবে কোন ধরনের উচ্চ শিক্ষা এবং নির্দিষ্ট কোন সরকারি চাকরি থেকে বরাবরই বঞ্চিত হয়ে আসছে উক্ত ডিপার্টমেন্ট হতে পাশ করা প্রকৌশলীগন । এরফলে বাংলাদেশে বাড়ছে বেকারত্ব নামক এক ভয়ংকর অভিশাপ । আর দিনের পর দিন ব্যাহত হচ্ছে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যক্ষাত । যা ভবিষ্যত ডিজিটাল বাংলাদেশের সামনে বড় ধরনের হুমকি সরূপ ।
উপরিউক্ত সমস্যার কথা বিবেচনায় রেখে ময়মনসিংহ পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট এর ২০১০ ব্যাচের ইলেক্ট্রো-মেডিক্যাল ডিপার্টমেন্টের ছাত্র-ছাত্রীরা একটি সংগঠন তৈরি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, যা পরে বিভিন্ন বাধার সম্মুক্ষিন হওয়ায় আর সফল হতে পারে নি । এরপর ময়মনসিংহ পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট সহ আরও বেশ কয়েকটি পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট এর ২০১২ এবং ২০১৩ ব্যাচের ছাত্র-ছাত্রীরা তৎকালীন সাবেক ও বর্তমান ছাত্র-ছাত্রীদের সমন্বয় সাধনের মাধ্যমে ইলেক্ট্রো-মেডিক্যাল ডিপার্টমেন্টের সুন্দর ও সাফল্যময় ভবিষ্যত সুনিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকারি পর্যায়ে প্রতিনিধিত্বমূলক একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠা করার সিদ্ধান্ত গ্রহন করে এবং প্রাথমিক পর্যায়ে কলেজ ভিত্তিক মাঠপর্যায়ে সুন্দর, সুশৃঙ্খল ও শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের ডাক দিয়ে থাকে । যার ফলে এই আন্দোলন তৎকালীন প্রিন্ট মিডিয়া ও ইলেক্ট্রিক মিডিয়াতেও ব্যাপক সারা ফেলতে সক্ষম হয় । টানা ৪১ দিনের এই আন্দোলনের ফলে যে সকল পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটে ইলেক্ট্রোমেডিক্যাল ডিপার্টমেন্ট রয়েছে তার প্রায় প্রতিটিতেই বেশ কিছু সংখ্যক মেডিক্যাল যন্ত্রপাতির বরাদ্য দিয়ে থাকেন তৎকালীন গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার ।
এরপর সুদীর্গকাল বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করার পর ১৭ ই মার্চ ২০১৭ ইং তারিখে বাংলাদেশের বিভিন্ন পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট হতে পাশ করে আশা ঢাকাস্থ ইলেক্ট্রো-মেডিক্যাল প্রকৌশলীগনকে সমন্বয় সাধন করার মাধ্যমে সরকারের উচ্চ মহলে প্রতিনিধিত্বমূলক,সুসংগঠিত,অলাভজনক ও অরাজনৈতিক একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠা করা হয় । যা সকল ইলেক্ট্রোমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার ও ছাত্র-ছাত্রিদের কাছে “ ডিপ্লোমা ইন ইলেক্ট্রো-মেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার্স এসোসিয়েশন” নামে পরিচত হয় এবং ব্যাপক সমর্থন লাভ করে । উক্ত এসোসিয়েশনের উদ্দ্যোগে ২৮ এপ্রিল ২০১৮ ইং তারিখে “ইন্সটিটিউট অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (আই ডি ই বি)” এর সম্মেলন কক্ষে ১ম বার্ষিক জাতীয় সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।